টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আবারো গণজাগরণ মঞ্চ বিতর্ক: কোটিপতি হয়েছেন অনেকে!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ৩১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

mamaগণজাগরন মঞ্চ নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না। একের পর এক এই মঞ্চ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রোকেয়া প্রাচী, অঞ্জন রায়ের পর এবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম প্রথম সারির ‘একটিভিস্ট’ মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শহীদুল হক। শহীদুল হক ‘মামা’ নামেই যিনি বেশি পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘মামা বাহিনী’র প্রধান কমান্ডার ছিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি অনলাইন পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন নানা কথা। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। তবে অনার্স শেষ করা হয়নি তার। ১৯৭৬ সালে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সুইডেনে সপরিবার চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই বাস করছেন। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও কাদের মোল্লার বিচারের সাক্ষ্য দিতে তিনি বাংলাদেশে আসেন। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সাথেও জড়িয়ে পড়েন সৈয়দ শহীদুল হক মামা। তবে হঠাৎ করেই এই আন্দোলন থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন তিনি। শুরুতে স্বতঃস্ফূর্ততা এবং পরে নানা কারণেই এই শাহবাগের আন্দোলনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শাহবাগ আন্দোলনের প্রায় ৭ মাসের মাথায় এসে শহীদুল হক মামা মুখ খুললেন এ আন্দোলন সম্পর্কে। প্রশ্ন তুলেছেন এর নেতৃত্ব নিয়ে। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এবং পেছনে থাকা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ভূমিকা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শহীদুল হক তার সাক্ষাতকারে যা বলেছেন তার কিছু কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো: ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান ‘শাহবাগ যখন জেগে উঠলো তখন লাখো লাখো মানুষের ঢল। আমার স্মৃতিতে চির অম্লান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনেক লোক মা-বাবা-ভাইবোনকে নিয়ে আসলো। হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রেমে আমাকে বন্দি করে রাখলো। তখন আমার কণ্ঠ ছিল প্রতিটি মানুষের কাছে হৃদয়ে দাগ কাটার মতো। কিন্তু এক পর্যায়ে দুঃখের সাথে বলতে হয়, ‘আমি যখন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলি এই শাহবাগ চত্বরে অনেকেই তখন নাখোশ হয়। আমাকে অনেকেই বলতো ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে পারবেন না। আমি বলি কেন বলবো না?’ ইমরান এইচ সরকার এবং নাসির উদ্দিন ইউসুফ প্রসঙ্গে এই শাহবাগের জন্ম দিলাম আমি। একসময় দেখলাম, তথাকথিত এই জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র এবং এই নাসির উদ্দিন ইউসুফরা বাধ্য হলো আমাকে স্তব্ধ করতে। আমাকে বললো- এই মঞ্চ থেকে চলে যান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এরা আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয় নাই, অথচ তাদের সুযোগ ছিল। আর আমি জীবনের বাজি রেখে সুইডেন থেকে এসে সাক্ষী দিলাম। আওয়াজ তুললাম কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, সব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। অথচ আপনারা ‘সোনার চান পিতলা ঘুঘু’ রাজধানীর বুকে থাকেন। বিভিন্ন বিষয়ে তারা বলেছে, ‘মামাকে আটকাও। নাসির উদ্দিন ইউসুফের বড় ভয় মামা কোন সময় কী বলে দেয়।’ অনেকে কোটিপতি হয়েছেন শাহবাগকে সামনে রেখে অনেকের ভাগ্য বদলে গেছে। অনেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আমি কিছু পাওয়ার জন্য আসিনি, কিছু দেওয়ার জন্য এসেছি। বঙ্গবন্ধু যেমন দলের জন্য তার জীবন-যৌবন শেষ করে গেছেন, জীবনে কখনো ভোগ করেন নাই- ত্যাগ করে গেছেন। আমি সেই পথের পথিক। আমার কাছে অনেকে কেঁদেছে। একজন রিটায়ার্ড কর্নেল যখন দেখলো সারাক্ষণ মামাকে দেখেছি টেলিভিশনে, এই যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে, তার সাহসী ভূমিকার জন্য তাকে সাইড করে রাখা হয়েছে, নিশ্চয়ই এরা জামায়াত-শিবিরের অর্থ খেয়েছে। জাতীয় নেতাদের অসন্মান আপনারা এমন কিছু কর্মকাণ্ড করলেন যে, জাতীয় নেতাদের বোতল ছুঁড়ে মারলেন। তাদের সন্মান দিলেন না। আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমার নেতৃত্বে মিরপুর-মোহাম্মদপুর মুক্ত হয়েছে। বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছি। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে এসব কথা বলেছি এবং রায় প্রত্যাখ্যান করে এসেছি শাহবাগ চত্বরে। শাহবাগ চত্বর এখন ফাঁকা এই শাহবাগ চত্বর জেগে উঠেছিল। চত্বরে লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়ো হয়েছিল। আজ সেই শাহবাগ ফাঁকা। কেন ফাঁকা হয়েছে সেটা আমি নতুন করে কিছু বলবো না। শাহবাগের ছেলেমেয়েরা এখনো ফোন করে আমাকে ডাকে, মামা আসেন। আমি বলেছি, যে থুথু আমি ফেলি, সে থুথু আমি চাটি না। ফাঁসির জন্য অপেক্ষা আমি রাজাকার, আলবদর, আল শামস এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা মসনদে আরোহন করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, তার হত্যার বিচার আমি নেবোই নেবো। এই কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন ফাঁসিতে পরিণত হয়েছে। কখন ফাঁসিতে ঝুলবে আমি সেই দিনটির প্রতীক্ষায় আছি। নির্বাচন, শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ এই জামায়াত-শিবিরের কবর বাংলার মাটিতে করতে হবে। তা না হলে, আগামী নির্বাচনের বৈতরণী যদি পার না হতে পারি…। আমি আবারও বলছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনতার কাছে ক্ষমা চান, আরেকটিবার সুযোগ চান, বলুন আশা আকাঙ্ক্ষা আমি পূরণ করবো।‌ একদল মানুষ শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করেছে, এই নিরীহ মানুষের অর্থ লুটে নিয়েছে, অনেকে পথের ফকির হয়েছে, আত্মহত্যা করেছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) তাদের বিচার করুন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন। তা না হলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। আমার ভয় হচ্ছে, আমি চাই না ২০০১-এর মতো ফলাফল আবার এই দেশে ঘটুক। নাস্তিকতা এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা আল্লাহ পরিষ্কার বলেছেন, আমি অত্যাচারীদের পছন্দ করি না। একাত্তরের দালালরা জায়নামাজ বিছিয়ে বলেছিল, পাকিস্তানকে রক্ষা করো। আল্লাহ তাদের হেফাজত করে নাই। পৃথিবীতে আল্লাহ ইনসাফের ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন এই রগকাটা-গলাকাটা জামায়াতের জন্য না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। তারপর একটা মূল্যবান স্লোগান ছিল, ধর্মনিরেপেক্ষ বাংলাদেশ। সব ধর্মের মানুষ এই দেশের জন্য লড়াই করেছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের জন্য নয়। সব মানুষের জন্য- সবার জন্য। আমি ইসলামে বিশ্বাস করি, আল্লাহ রাসুলে বিশ্বাস করি। আমি আস্তিক, নাস্তিক না। সূত্র: প্রিয়.কম – See more at: http://dainandincox.com/archives/32758#sthash.dgJHjSjC.dpufজামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী ও মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘মামা বাহিনী’র প্রধান কমান্ডার সৈয়দ শহীদুল হক মামা বলেছেন, শাহবাগকে সামনে রেখে অনেকেরই ভাগ্য বদলে গেছে। অনেকে কোটিপতি হয়েছেন। জীবন বাজি রেখে সুইডেন থেকে এসে সাক্ষী দিলাম। কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, সব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। একসময় দেখলাম, তথাকথিত এই জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র এবং এই নাসির উদ্দিন ইউসুফরা আমাকেই বললো- এই মঞ্চ থেকে চলে যান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এরা আদালতে সাক্ষী হয় নাই।  সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, শাহবাগ যখন জেগে উঠলো তখন লাখো লাখো মানুষের ঢল। তখন আমার কণ্ঠ ছিল প্রতিটি মানুষের কাছে হৃদয়ে দাগ কাটার মতো। অনেক লোক মা-বাবা-ভাইবোনকে নিয়ে আসলো। অনেকে আসলো- মামার সঙ্গে ছবি তুলব। কিন্তু, এক পর্যায়ে দুঃখের সাথে বলতে হয়, ‘আমি যখন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলি এই শাহবাগ চত্বরে অনেকেই তখন নাখোশ হয়। আমাকে অনেকেই বলতো ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে পারবেন না। আমি বলি কেন বলবো না?  তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, শাহবাগকে সামনে রেখে আপনারা কামায়ে গেলেন। এমন কিছু কর্মকাণ্ড করলেন যে, জাতীয় নেতাদের বোতল ছুঁড়ে মারলেন। আমি ট্রাইব্যুনালে গিয়ে কথা বলেছি এবং রায় প্রত্যাখ্যান করে এসেছি শাহবাগ চত্বরে। লাখো মানুষ জড়ো হয়েছিল শাহবাগে। আজ সেই শাহবাগ ফাঁকা। কেন ফাঁকা হয়েছে সেটা আমি নতুন করে কিছু বলবো না।  একজন রিটায়ার্ড কর্নেল আমার কাছে বলেছেন, নিশ্চয়ই এরা জামায়াত-শিবিরের অর্থ খেয়েছে। নাসির উদ্দিন ইউসুফের বড় ভয় মামা কোন সময় কী বলে দেয়। শাহবাগের ছেলেমেয়েরা এখনো ফোন করে আমাকে ডাকে, মামা আসেন। আমি বলেছি, যে থুথু আমি ফেলি, সে থুথু আমি চাটি না।  শহিদুল হক মামা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, জনতার কাছে ক্ষমা চান, আরেকটিবার সুযোগ চান, বলুন আশা আকাঙ্ক্ষা আমি পূরণ করবো। এই জামায়াত-শিবিরের কবর বাংলার মাটিতে হতেই হবে।  মামা বলেন, একদল মানুষ শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করেছে, এই নিরীহ মানুষের অর্থ লুটে নিয়েছে, অনেকে পথের ফকির হয়েছে, আত্মহত্যা করেছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) তাদের বিচার করুন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন। তা না হলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার ভয় হচ্ছে। আমি চাই না ২০০১-এর মতো এই ধরনের ফলাফল আবার এই দেশে ঘটুক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস হয়ে যাক।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT