হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপ্রচ্ছদফিচার

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ও প্রাসঙ্গিক কথা

মাওলানা মুহাম্মদ আলমগীর = ১৮৮৬ সালের ১মে তারিখে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মাকের্টে শ্রমজীবি মেহনতী মানুষ গুলো তাদের মানবীয় মৌলিক. প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে ৮ ঘন্টা কাজের ন্যায্য দাবী নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অনেক শ্রমিক নিহত হয়। একথা দিবালোকের মত সত্য যে পৃথিবিীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আল্লাহর আইন ছাড়া মানব রচিত আইন দিয়ে গঠিত সকল রাজ শক্তি শ্রমজীবি মেহনতী জনতার ন্যায দাবী তথা শ্রমের মুল্যে মৌলিক মানবাধিকার সহ নিয়ে মাঠে নেমেছে তখনেই পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমনের নামে শ্রমিকদেরকে গুলি করে পাখীর মত হত্যা করেছে। যা সম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে গামের্ন্টস শ্রমিকদের ন্যায় সংগত আন্দোলন রত শ্রমিকদের নির্যাতন তার বাস্তব প্রমান। হে মাকের্টের শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে জীবন দিতে প্রস্তুত হয় কিন্তু দাবী ত্যাগ করতে অস্বীকৃত জানায়। তাদের সে আত্ব ত্যাগের ফলে মালিক পক্ষ দাবী মানতে বাধ্য হয়। তখন থেকেই গোটা বিশ্বে ১মে তারিখে শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করে এবং ৮ ঘন্টা কাজের স্বীকৃত আদায় করে। এ দিবসটি শ্রমিক আন্দোলনের প্রতিকে পরিনত হয়। শিকাগোর আদলে সংগঠিত হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করাকেই শ্রমিকরা আদর্শ হিসাবে গ্রহন করেছে। শিকাগোর আন্দোলন কারীরা জীবন উৎসর্গ করে দাবী আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তারা কারখানা ভাংচুর,বোমা বাজি,লুট তারাজ,জালাও পোড়াও করার আদর্শ স্থাপন করেনি। শ্রমিক আন্দোলনে এ জাতীয় নাশকতামুলক কার্যকলাপের কু প্রথা কমিউষ্টিরাই চালু করেছে। কমিউনিষ্ট রাশিয়াতে শ্রমিক আন্দোলন করার কোন অধিকার ছিলনা কিন্তু রাশিয়ার দালালরা সারা দুনিয়ার শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা চালু করার শিক্ষাদেয়। রাশিয়ার সমাজতন্ত্র আত্বহত্যা করলেও এ কুপ্রথা এক শ্রেনীর লোকের মধ্যে এখনো অত্যান্ত সক্রিয়। মুলত রাশিয়ার সমাজ তান্ত্রিক বিপ্লব হয়েছিল শ্রমিকদের আন্দোলনের ফসল। সস্তা রাজনৈতিক শ্লোগান দিয়ে শ্রমিকদের রক্তের সিড়ি বেয়ে সমাজতান্ত্রিক বলয়ে লেনিন,কাল মার্কস ও মাও সেতুংরা ক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতা লোভী,স্বার্থনেষী মহল শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় যাবার ফলে দেশের সুবিধা বাদী শ্রমিক নেতৃবৃন্দুর কপাল পরিবর্তন হলেও খেটে খাওয়া দিন মজুর মেহনতী শ্রমিকদের ভাগ্যর কোন পরির্বতন হয়নি। তাদের কপাল এখনও দুঃখ কষ্টের আগুনে দাউ দাউ করে জলছে। শ্রমিজীবি মানুষের দ্বীর্ঘ দিন আন্দোলনের ফলে বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল এবং সর্ব শেষ বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত শ্রম আইন গুলো বিভিন্ন কারনেও বিভিন্ন ভাবে জারী করা হয়। ১৯২২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সময়ে শ্রমিকদের কল্যান ৩৭টি,আইন জারী করা হয়। জারী কৃত শ্রম আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে সব সমস্যা ও ক্রটি পরিলক্ষিত হয় তা দুর করার জন্য ১৯৯১ সালে লেবার কোট বার এসোসিয়েশন সর্ব প্রথম দাবী জানায়। এর ফলে একক লেবার কোট প্রনয়নের জন্য গন প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শ্রম আইন কমিশন ১৯৯২ নামে একটি শ্রম আইন কমিশন গঠন করে ১৯৯২ সালের ২৯ মার্চ তারিখে সরকারী,বেসরকারী,সদস্য মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দুর সমন্বয় কমিশন টি গঠিত হয়। কমিশন দেড় বছর পরিশ্রম করে ১৯৯৪ সালে ৩১ মার্চ সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন জাতীয় শ্রম আইন কমিশনের রিপোট এর ভিত্তিতে সরকার শ্রমিক পক্ষ ও মালিক পক্ষের সাথে দ্বীর্ঘ আলোচনার পর ১১ই অক্টোবর ২০০৬ সালে বর্তমান শ্রম আইন টি প্রনয়ন করে। শ্রম আইন ২০০৬ এর বৈশিষ্ট শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় শ্রম আইন অনুমোদন হলেও বাস্তবে তা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। কারন যারা ক্ষমতায় যায় তারা বেশীর ভাগেই বুর্জোয়া শোষক শ্রেণি,শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী। শ্রমিকদের অধিকার আদায় করতে হলে নিজ স্বার্থের ক্ষতি হবে। কারন তারা শ্রমিকদের ঠকিয়ে কোটি পতি হয়েছেন এবং সেই টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষমতাসীন হলেন এই সব স্বার্থ বাদী বুর্জোয়া,শোষক শ্রেনী শ্রমিকদেরকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসাবে ব্যবহার করলেও শ্রমিকদের সার্থে তারা কখন সোচ্ছার ভূমিকা পালন করতে দেখা যাইনি। বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন হিসাবে শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। রাজ পথের আন্দোলন সংগ্রামে শ্রমিকরা বলিষ্ট ভুমিকা পালন করে। ক্ষমতার পট পরির্বতনে রক্তের নজরানা পেশ করেন শ্রমিকরা। আর কতিপয় আদর্শহীন শ্রমিক নেতৃবৃন্দু দিনে শ্রমিকদের পক্ষে জোর গলায় বক্তব্য রাখেন এবং রাতের আধারে মালিক পক্ষের সাথে স্বার্থের বিনিময় আতাত করে শ্রমজীবি মেহনতী মানুষের স্বার্থে জলাংজলি দিয়ে শ্রমিকদের সর্ব শান্ত করা হচ্ছে। এ জাতীয় মুনাফিক ও আদর্শহীন শ্রমিক নেতৃবৃন্দুই শ্রমিকদের স্বার্থের মারাত্বক ক্ষতিকর। শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে সহজে রাজনীতি করা যায় কিন্তু সমাস্য স্থায়ী সমাধান হয়না। রাজপথে শ্রমিকরা পুলিশের গুলিতে আহত ও নিহত হলো বিচার হয়নি। মানব সৃষ্টি বির্পযয়ে তাজরীনের ১২৪ জন,রানা প্লাজায় ১১৩৮ জন,মুহাম্মদপুরে ৭ জন শ্রমিক নিহত হলো, ২০০০ এর উপরে আহত এবং অসংখ্য শ্রমিক পঙ্গু হলো। তাদের অসহায় ছেলে মেয়েদের আর্তনাদ আজ আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আসছে। আজকে প্রয়োজন সৎ,যোগ্য,খোদাভীরু ও আদর্শ বাদী শ্রমিক নেতার যারা শ্রমিকদের রক্তের সাথে বেইমানী করবেনা।

লেখক
মসজিদের খতিব,সংগঠক ও সভাপতি : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেড়ারেশণ,কক্সবাজার জেলা।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.