টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত সহায়তার ঘোষণা মিশনপ্রধানদের লম্বরীর শামসু ও জামাল ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার নয়াপাড়া নবী হোসাইন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের ১ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত নয়াপাড়া ক্যাম্পের দুই রোহিঙ্গা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার জাদীমুরা ক্যাম্পে লাঠির আঘাতে ১ রোহিঙ্গা নিহত টেকনাফে পাহাড় থেকে শাহিনা নুর নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার মালয়েশিয়া মানবপাচার অর্থানে ২৬ হুন্ডি ব্যবসায়ী কাটাখালীর সেলিম ও নয়াপাড়ার আমিন বিয়ার—পিকআপসহ গ্রেপ্তার টেকনাফে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ভাতার চেক হস্তান্তর যেসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন ১১ এপ্রিল (তালিকাসহ)

আতঙ্কের নাম ওসি দীপক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১৭৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাসের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় পুলিশি হয়রানিতে বেতবাড়ী গ্রাম এখন পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। সাত মাস ধরে ওসির অত্যাচারে অতিষ্ঠ দলীয় নেতা কর্মীসহ সাধারণ মানুষ। ।

সরেজমিন থেকে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের পূর্ব বেতবাড়িয়া গ্রামে দীর্ঘ ৭ মাস আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক বেতবাড়ী গ্রামের হবিবর রহমান হবিকে দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে থানায় আসতে বলে ওসি। রাত হওয়ায় থানায় যায়নি হবি। এরপর থেকেই হবিকে ধরতে মরিয়া ওসি দীপক।

সেই ঘটনার জের ধরে প্রতিরাতে পুলিশি অভিযানের নামে পুরো গ্রামটাই তছনছ করতে থাকে ওসি। পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে শুরু হয় টাকার বাণিজ্য। অথচ গ্রামটির কারও বিরুদ্ধে থানায় নেই কোনো মামলা। রাত হলেই পুলিশি অভিযানের নামে হানা দিয়ে গ্রামে বসতিদের ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করাসহ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই রাত হলেই পুলিশি আতঙ্কে পুরুষ শুন্য হয় গ্রামটি। ওসিসহ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করছেন পুরো বেতবাড়ী গ্রামের সাধারণ মানুষের।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তারপরও থানায় আটকে রেখে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। টাকা না দিলে যাকে পান তাকেই আটক করেন ওসি।

বেতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোতালেব আলী সরকারের ছেলে সাইফুদ্দিন (৭০) বলেন, ‘ওসি নিজে তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রতিদিন রাতে হানা দেয়। এসময় গ্রামের মানুষ দিকবিদিক পালাতে থাকে। রাতের অন্ধকারে পালানোর সময় অনেকে আহতও হয়েছে। আমি বৃদ্ধ হয়েও আমাকে দৌড়ে পালাতে হয়েছে কয়েকবার। আমরা এ থেকে মুক্তি চাই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ছুটিতে আসা র‌্যাব সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ থেকে একটি সমাধান হওয়া দরকার।’

উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে পুলিশের অভিযানে আমরা বাড়িতে থাকতে পারি না। এতে একদিকে লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবার থাকছে দুঃশ্চিন্তায়। আর যাকে ধরতে পারছে তাকে টাকার বিনিময়ে ছাড়াতে হবে। কিন্তু আমরা টাকা পাবো কোথায়।’

পড়ালেখা শেষ করে বাড়িতে মুরগী খামার ও চাষাবাদকরা মজনু রহমানের ছেলে নিজামুল হক বলেন, ‘আমার বাবাকে ফোন করে থানার দারোগারা টাকা চায়। নইলে ধরে নিয়ে ক্রস ফায়ারে দেবে বলে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আমরা এখন চরম অশান্তির মধ্যে আছি।’

এ  বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস বলেন, ‘বেতবাড়ী গ্রামে কারও বিরুদ্ধে মামলা নেই তবে এখন মামলা হবে। আমি কোনো গ্রেপ্তার বাণিজ্য করিনি। মানুষ আমার নামে কুৎসা রটাচ্ছে।’

ঘটনার সত্যতা বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি দাবি করে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় কোনো গ্রেপ্তারি বাণিজ্য হবে না। আপনাদের মাধ্যমে আমি অবগত হলাম। বিষয়টি একজন সিনিয়র অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করব।’ সত্যতার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT