টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আওয়ামী লীগের বিলবোর্ড রাজনীতি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম###Billboard-teknafরাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে শুরু করে আশেপাশের জেলা শহরে গত ছয় দিন ধরে শোভা পাচ্ছে আওয়ামী লীগের বিলবোর্ড। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ভিত্তিতে স্থাপিত এসব বিলবোর্ড এখন রাজনীতির আলোচনায় শীর্ষ স্থান পেয়েছে।

রাজধানী এবং পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপিত এসব বিলবোর্ডে আগের বিজ্ঞাপনী প্রচারণার স্থলে শোভা পাচ্ছে ‘উন্নয়নের অঙ্গীকার ধারাবাহিকতা দরকার’ স্লোগান সম্বলিত সরকারের উন্নয়ন বার্তা।

বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ও অনুমতি না নিয়েই স্থাপিত এসব বিলবোর্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়নের সচিত্র প্রচারণা শোভা পাচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বিলবোর্ডগুলোর চিত্র রাতারাতি পরিবর্তিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, হতভম্ব হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও বিজ্ঞাপনদাতারা।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, উত্তরা, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড়, পল্টন, গুলিস্তানসহ সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বিলবোর্ড ‘দখল’ হয়ে গেছে।

তবে সরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সরকার দলীয় নেতাদের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্র সম্বলিত বিলবোর্ডগুলো এ ‘দখলদারিত্ব’ থেকে মুক্ত রয়েছে।

তবে এসব বিলবোর্ডে সরকারি দলের দলীয় স্লোগান ব্যবহার করা হলেও এর প্রচারক সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। ফলে, অনেকেরই অজানা রয়েছে, কার বা কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসব বিলবোর্ড করা হয়েছে।

বিলবোর্ডগুলোর প্রকৃত মালিক ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানেন না, কারা করেছেন এটি!

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ বিলবোর্ড দেখার দায়িত্ব আমাদের না। আমরা বিলবোর্ড স্থাপন করে দেওয়ার পর বিভিন্ন কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেই। তারাই এটা দেখভাল করেন।’

কিন্তু, কোম্পানির কাছে কতদিনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। বিস্তারিত জানতে হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসতে হবে। এখন সরকারের প্রচারণায় কারা, কখন, কীভাবে এ বিলবোর্ড বসিয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

সিটি কর্পোরেশনের মোট কতটি বিলবোর্ড রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র দক্ষিণেই বৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা ৫০০টি। এর বাইরে কিছু অবৈধ বিলবোর্ডও আছে। এছাড়া উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনেও ৪০০টি বিলবোর্ড রয়েছে।’

একইভাবে দায়সারা উত্তর দিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘নগরীতে অনেক কুরুচিপূর্ণ, কুৎসিত ও অবৈধ বিলবোর্ড ছিল; সেগুলো সরিয়ে এখন ভালো বিলবোর্ড বসানো হয়েছে, খারাপ কী!’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রচারণায় বিলবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এটা খারাপভাবে দেখার কী আছে! তবে বিলবোর্ড বসানোর ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানা নেই।’

বিএম এনামুল হক আরো বলেন, ‘বিষয়টি আপনিও দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। কারা কীভাবে এ বিলবোর্ড বসালো, তা জানার চেষ্টা করছি। কিন্তু, এখন ঈদ আসন্ন হওয়ায় সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অফিসের কাজ গোছানো নিয়ে। তাই, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট শনিবার রাতের অন্ধকারেই পাল্টে গেছে রাজধানী ঢাকার বিলবোর্ডগুলোর চেহারা। সবগুলো বিলবোর্ড এখন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের একটি অংশই এ বিলবোর্ড স্থাপন করেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এ বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সদ্য সমাপ্ত পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচারের কারণেই তাদের পরাজয় হয়েছে। সে কারণে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদের পর বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারের চার বছরের উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। এ প্রচারণার অংশ হিসেবে কিছুটা আগেই প্রচারণায় নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ।

দলের পক্ষ থেকে একাধিক নেতাও বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচার রোধেই এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিলবোর্ড নিয়ে গত তিন ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যে বক্তব্য দিয়েছি, সেটাই আমার বক্তব্য। এখন আর নতুন করে কিছু বলতে চাই না।’   তবে এসব বিলবোর্ডের দায়িত্বে থাকা একাধিক বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি।

তবে এ সব বিলবোর্ড কোনো অনুমতি ও অনুমোদন ছাড়াই রাতারাতি ‘দখল’ হওয়ায় প্রত্যেকটি সংস্থাই হতাশা প্রকাশ করেছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT