হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা: বাজার দেখার কেউ নেই

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: প্রথম দিকে রোজার ঈদ ও পরবর্তী সময়ে নতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও নীরব ভূমিকা পালন করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। পক্ষান্তরে, সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। কোথাও অনিয়ম চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (০৫ জুলাই) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে। পণ্যের বেশি দামের কারণে তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টিও আছে। অনেকেই ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, বাজার দেখার কেউ নেই। যে যা নিতে পারছে, নিচ্ছে। যে দিতে পারছে, দিচ্ছে। হরতাল নেই, অবরোধ নেই, বৃষ্টি নেই, বন্যা নেই। নেই কোনও ধরনের রাজনৈতিক হাঙ্গামাও। তারপরও সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

তবে, ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতেরও যেন শেষ নেই। তাদের কাছে কখনও দাম বাড়ে মোকামের কারণে, কখনও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণে, আবার কখনও সরবরাহ কম থাকায়। আবার কখনও গাড়ি ভাড়া, যেমন- ট্রাক, ভ্যান, এমনকি রিকশা ভাড়াবৃদ্ধির কারণেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে বলে অজুহাত দাঁড় করায় ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনও কারণ ছাড়াই বেড়েছে সব ধরনের মাছ মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আটার দাম। ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরের বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা কেজি দরে। বাজেটে র’ সুগারের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির অজুহাতে বেড়েছে চিনির দাম। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা দরে। আর দেশি শিল্পকে প্রটেকশন দিতে শুল্ক বেড়েছে আমদানি করা গুঁড়ো দুধের। এই সুযোগে ৫৪০ টাকার গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা কেজি দরে। আর ৪৪৫ টাকার গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪৯৫ টাকা কেজি দরে।

ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১৫টাকা। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ডিম বিক্রেতারা বলছেন, খামারে গরমের কারণে ডিমের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া মাছ ও মাংসের দাম বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ পড়েছে। তাই দামও বেড়েছে।
জানা গেছে, আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা। এর প্রভাবে আমদানি করা পেঁয়াজের সঙ্গে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। ২৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। রসুনের দাম বাড়ার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই, তারপরেও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরের রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম বাড়লে রসুনের দামও বাড়ে।

তবে এক্ষেত্রে শ্যামবাজারের আমদানিকারক ওবায়েদ উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, চায়না রসুনের দাম বেড়েছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে দেশি রসুনের ওপর। হিলি বন্দর দিয়ে আসছে ভারতীয় পেঁয়াজ। সেখানেই বাড়তি দাম দিয়ে আনতে হচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজ।

রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারে বাজার করতে আসেন রওনক হোসেন নামের এক সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই শুনছি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ বাড়িয়েছে সরকার।’

রওনক হোসেন জানান, বাজারে এলে এখনও সবজি বিক্রেতা ও মাছ বিক্রেতারা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ৩০ হাজার টাকার বেতন ৬০ হাজার টাকা হয়েছে। ২০ হাজার টাকার বেতন ৪০ হাজার টাকা হয়েছে। আমরা কেজিতে ২ টাকা বেশি নিলেই যত রাগ ক্ষোভ। তিনি জানান, বেতন বাড়ানোর পর থেকে সবকিছুর দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে কি বাড়তি বেতনের কিছু অবশিষ্ট আছে? কিন্তু এখনও শেষ হয়নি বেতন বাড়ানোর প্রভাব।

নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর মৌলভীবাজার পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে কোনও পণ্যের দামই বাড়েনি। সবকিছু ঠিক আছে, ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। ঝামেলা যা হওয়ার তা হচ্ছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারের অস্থিরতার প্রভাব আমাদের ঘাড়ে এসেও মাঝেমধ্যে পড়ে। নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হই। খুচরা বাজারে মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা শুধু ফাঁকফোকর খুঁজে বেড়ান, কখন কোন সুযোগে অনৈতিক মুনাফা করবেন। এসব অসাধু ব্যবসায়ীর দায়িত্ব আমরা নেবো না। তারা বিচ্ছিন্ন। তবে সরকারের মনিটরিং জোরালো করা দরকার।’

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং সেল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, র‌্যাব বিভিন্ন সময় বাজার মনিটরিং করছে। কোথাও অসঙ্গতি দেখলে ব্যবস্থাও নিচ্ছে এসব টিম।’ মনিটরিং অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.