হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

সাহিত্য

অষ্টম দোজখ কোথায় এবং কেমন?

-হারুনুর রশিদ আরজু:::: হুজুগে বাঙ্গালী নামে আমাদের একটা বিশেষ প&&&&&&&&&&রিচয় রয়েছে। ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রতি দুই মাস পরপর ঋতু বদল হয়। শীত শুরু হলে টানা দুই মাস কেবল শীত পড়ে। গরম শুরু হলে টানা গরমই পড়ে। এভাবে ষড় ঋুুতুর মতো আমাদের দেশে কোনো ঘটনা একবার শুরু হলে সেটাই পরপর ঘটতে থাকে। যেমন- ইভটিজিং যখন শুরু হয় তখন কেবল ইভটিজিং এর খবর। সারাদেশে ব্যাপক বা মহামারী আকারে চলতে থাকে ইভটিজিং। কোথাও ধর্ষণ শুরু হলে কেবল সারা দেশে ধর্ষণ চলতে থাকে আর থামে না। ছিনতাই শুরু হলে কেবল ছিনতাই চলতে থাকে। খুন শুরু হলে সারা দেশে কেবল খুনের ঘটনা ঘটতে থাকে। দুর্ঘটনা শুরু হলে কেবল দুর্ঘটনাই ঘটতে থাকে। ব্যাংক ডাকাতি শুরু হলে কেবল ব্যাংক ডাকাতি হয়। গুম শুরু হলে কেবল গুম চলতে থাকে। অপহরণ শুরু হলে কেবল অপহরণ চলতে থাকে। অনেকটা সিনেমা হলে যেমন ছবি প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপনে বলা হয় ‘ এখন মহাসমারোহে চলিতেছে বেদের মেয়ে জোসনা’। এটাই এখন বাংলাদেশের কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতার আলোকে এখন সারাদেশে একযোগে চলছে ‘গুম-খুন-অপহরণ’।

যে গুম-খুন-অপহরণের ঘটনাটি সারাদেশে বর্তমানে আলোচিত তা হলো-গত ২৭শে এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জন। এর তিন দিন পর ৩০শে এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ৭ জনের মরদেহ। নিহতদের পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী অপহরণের রাতেই তাদের হত্যা করা হয় এবং লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয়। আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭ জনকে হত্যার আগে তাদের মাথায় আঘাত করে অচেতন করা হয়। এরপর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশ যাতে ভেসে না ওঠে এ জন্য মৃতদেহের প্রত্যেকটির সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে পিঠ ও পেটের দিকে ১২টি করে ২৪টি ইট বেঁধে দেয়া হয় এবং প্রত্যেকের নাভির নিচে ফুটো করে দেয়া হয়। এমন একটি ঘটনায় সারাদেশ যখন তোলপাড় তখন মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জনগণকে শান্তনা দিয়ে ৭ই মে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছে। তবে দু’একটি গুম-খুনের ঘটনা ঘটতেই পারে। আশা করি, আগামী দিনে তাও আর ঘটবে না।” জয়নাল আবেদীন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও লক্ষীপুরের যুবদল নেতা সামছুল ইসলাম সোলায়মানকে অপহরণ করা হয়েছিল রাজধানীর উত্তরা থেকে। অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণের পর একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের দু’দিন পর তার লাশ পাওয়া যায় বসুরহাটে। গত ২০শে মে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী থেকে ফুলগাজী যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের সময় ফেনী শহরের একাডেমি সড়কের বিলাসী সিনেমা হলের কাছাকাছি স্থানে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একরামের মৃত্যু নিশ্চিত করতে গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এতে তিনি গাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। গত ২১শে মে লক্ষীপুর জেলায় একরাতে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়েছেন।  এসবের তালিকা দীর্ঘ করার আবশ্যকতা নেই।

বাংলাদেশে মন্ত্রী এমপি হওয়ার জন্য কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে (১৯৭৩) নির্বাচনে ১১ জন, জিয়াউর রহমানের সময়ে (১৯৭৯ সালে) ১১ জন, এরশাদের সময়ে (১৯৮৮ সালে) ১৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের আগেই সর্বোচ্চ ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ২০০৭ সালের বাতিল হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ১৮ আসনে একক প্রার্থী ছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে কোনো নির্বাচন করতে হয়নি। স্বপ্নে পাওয়া ঔষধের মতো তারা এমনিতেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এখন এদেশে এমপি হতে ভোটও লাগে না যোগ্যতাও লাগে না। শুধু এমপি নির্বাচিত হওয়া না এদেশে প্রধানমন্ত্রী হতেও তেমন যোগ্যতা লাগে না। মে দিবস উপলক্ষে গত ২৩শে মে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, “ মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছিলেন, এটা ওটা চিনলে ড্রাইভার হওয়া যাবে। তার বক্তব্যের অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি এটা না বলে বলতে পারতেন, সব সাবজেক্টে ফেল করে যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় তাহলে ড্রাইভার হতে কেন মেট্রিক পাস হওয়া লাগবে?” অর্থাৎ এদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে মেট্রিক পাশের প্রয়োজন নেই।

এইদেশে সব ধারার অপরাধীদের বাঁচার জন্য আরাম বা সুবিধার পথ হলো রাজনৈতিক বিবেচনা বা পরিচয়। খুন, ধর্ষণ, ঘুষ লেনদেন, অবৈধভাবে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, ডাকাতি, অবৈধভাবে অস্ত্র দখলে রাখা, কালোবাজারি, অপহরণ, জালিয়াতি, চুরি, অস্ত্র মামলাসহ যত গুরুতর অপরাধের মামলা আছে তা প্রত্যেক সরকারের আমলে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ প্রত্যাহারের সুপারিশ করে মামলা থেকে অব্যাহতির সুযোগ দেয়া হয়। যারফলে অপরাধ বন্ধ হয় না। বরং অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। গত মহাজোট সরকারের আমলে ৭ হাজার ১৯৮টি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাহারের সুপারিশের ঘটনা ঘটল তার মধ্যে ৪০টি আবার মৃত্যুদন্ডযোগ্য খুনের মামলা (প্রথম আলো, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪)। ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা’য় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের ২০০১-০৬ মেয়াদে পাঁচ হাজার ৮৮৮টি মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও ৯৪৫টি মামলা থেকে কিছু আসামিকে অব্যাহতি দেয়। এ প্রক্রিয়ায় তখন মোট ৭৩ হাজার ৫৪১ জন অভিযুক্ত খালাস পায়। (প্রথম আলো, ৭ অক্টোবর, ২০১৩)। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার সুযোগের ভিত্তিতে কথিত ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই ধারার শিরোনাম হচ্ছে ‘মামলা পরিচালনা প্রত্যাহারের ফল’। যদিও তুচ্ছ, অযাচিত বা মিথ্যা মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সময় বাঁচাতে এবং নিরীহ-অসহায় মানুষকে হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি দিতে ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলা প্রত্যাহারের বিধানসংবলিত ৪৯৪ ধারা সংযোজিত হয়। কিন্তু এই ধারাটির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যবহার বেশি। বিএনপি আমলে যা ‘হত্যা মামলা’, আওয়ামীলীগ আমলে তা ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা। আবার আওয়ামীলীগ আমলে যা ‘ধর্ষণ মামলা’ বিএনপি আমলে তা ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা বিবেচনা করা হয়। এটাই হচ্ছে এই দুই রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের সুবিধা ভোগের জায়গা। তাই ‘নো চিন্তা ডু ফূর্তি’ এই দর্শনে বিশ^াসী হয়ে খুন, ধর্ষণ, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ইত্যাদি নিরন্তর চলতে থাকে। শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় মালমা প্রত্যাহার নয় বর্তমানে আরোও একটি আবদার যোগ হয়েছে মেধার বিবেচনা না নিয়েই ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মীকে চাকরি দিতে হবে। গত ১৭ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি নীলদলের আহ্বায়ক রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল আজিজ বলেন, “চাকরি পেতে ছাত্রলীগকর্মীদের রেজাল্টের প্রয়োজন নেই, তাদের গায়ে থাকা ক্ষতচিহ্নই তাদের বড় যোগ্যতা। তাদের আর কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।” অন্যদিকে গত ৯ই এপ্রিল মাননীয় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ছাত্রলীগের জন্য আরোও একটি পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “বদরুন্নেছা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে আমি উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। একই সঙ্গে আমি বলছি- তোমরা যদি সারাদেশে ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাও তবে তোমাদের কোনো ভাড়া লাগবে না। সকল ব্যবস্থা আমি করবো।” এখন গায়ে শুধু ‘ছাত্রলীগ তকমা’ থাকলে চলবে।

২৪ মে ২০১৩-এর দৈনিক প্রথম আলোর পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার প্রধান শিরোনাম ছিল, ‘খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্তরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চান’। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা রাখা হয়েছে। সংবিধানে লেখা আছে যে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা বা দ- মওকুফ করতে পারেন। মানে এদেশে খুনিরা আইন অনুযায়ী শাস্তি পাওয়ার পরও শাস্তি ভোগ করে না বা তাদের শাস্তি ভোগ করতে হয় না। মহামান্য রাষ্ট্রপতির উদারতায় এবং মহানুভবতায় অনেক মার্ডারারকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দেন। এমনকি যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্তরাও সাধারণ অপারাধীদের মতো রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারবেন। এটি সাজা প্রাপ্তদের সাংবিধানিক অধিকার। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি)- ২০১১-১২ সালের প্রতিবেদন বলছে, ৯৩ শতাংশ তথ্যদাতার ধারণায়, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ দুর্নীতিপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হলো রাজনৈতিক দল ও পুলিশ এবং ৮৯ শতাংশ তথ্যদাতার ধারণায় এর পরের অবস্থান বিচারের। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০১৩ সালটি ছিল সবচেয়ে বেশী রাজনৈতিক সহিংসতাপূর্ণ বছর। এই বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় ২০১৩ সালে ৫০৭ জন মানুষ মারা যায়।

এদেশে হাতে ধর্মীয় বই থাকলে সেটা ‘জিহাদী বই’ হয়ে যায় কিন্তু হাতে সিগারেট থাকলে কোনো অপরাধ হয় না। এদেশে সিএসজিতে চড়তে হলে বাঘের খাঁচার মত বন্ধি থাকতে হয়। খাবার পানিতে দুর্গন্ধ পোকা ময়লা ফ্রি পাওয়া যায়। ফল খেতে গেলে ফরমালিন, মাছ কিনতে গেলেও ফরমালিন ফ্রি পাওয়া যায়। হোটেলে মরা মুরগীর মাংস খাওয়া যায়। ভেড়াকে ছাগল খাসী বলে মহিশকে গরুর মাংস বলে বিক্রি করা যায়। সবই হয় প্রশাসনের নাকের ডগায়। অপরাধীদের জন্য এটা স্বর্গরাজ্য। ভালো পরিবেশ থাকায় এদেশে অপরধীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। তাইতো এদেশের অপরাধীদের মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। যেমন জাল টাকা তৈরির বিশে^র শ্রেষ্ঠ কারিগর বাংলাদেশে বাস করে। বাংলাদেশে জাল টাকা তৈরির জনক হলেন দুরুজ্জামান ওরফে মাস্টার ওরফে জামান বিশ্বাস। এমন একজন গুণী ব্যক্তির চেহারা দর্শনের জন্য সুদূর জার্মান থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন জার্মানির সেন্ট্রাল ব্যাংকের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা (ইউরোসিস্টেম এ্যাডভাইজার) জেনস ফারম্যান। এই জার্মান বিশেষজ্ঞ জাল টাকা তৈরির জনক জামান বিশ্বাসের অভিজ্ঞতা এবং মেধাকে কাজে লাগাতে চান বলে এই গুণীর মূল্যবান কথা শুনার জন্য ব্যকুল হন।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কেমন বেগম খালেদা জিয়ার চাইতে কেউ ভালো বলতে পারবে না। গত ২২শে মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খুন-গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার নেতাকর্মীদের স্বজনদের নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেন,“আমাদের প্রিয় স্বদেশ আজ মৃত্যুউপত্যকায় পরিণত। বাংলাদেশ এখন এক আতঙ্কের জনপদ। যেন কোনো শাসন নেই, সরকার নেই, প্রশাসন নেই। আছে কেবল ত্রাস। আছে নিরাপত্তাহীনতা। ঘরে, রাস্তাঘাটে, অফিসে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। যে-কোনো মুহূর্তে যে-কেউ খুন, অপহরণ, বলপূর্বক নিখোঁজ হবার ভয়। নাগরিকদের রক্ষা করার, নিরাপত্তা দেয়ার যেন কোথাও কেউ নেই। খালে-বিলে, নদী-নালায়, যেখানে-সেখানে পাওয়া যাচ্ছে লাশ আর লাশ। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম তরুণেরা খুন হচ্ছে, অপহরণ হচ্ছে, তাদেরকে বলপূর্বক নিখোঁজ করা হচ্ছে, নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের উপর উৎপীড়নের পাশাপাশি এখন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি মানবাধিকার কর্মীরা পর্যন্ত বিপন্ন হয়ে পড়েছেন।” শুধু বেগম খালেদা জিয়া নয় এদেশ নিয়ে গত ২৪শে মে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক বলেন, “মিজানুর রহমান খান বলেন প্রধানমন্ত্রী নাকি সরকার। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, প্রশাসনের যুগ্ম সচিব কিংবা জমির সার্ভেয়ার হলো সরকার। আসলে এ দেশে কে সরকার সেটাই বুঝতে পারি না।” তবুও এদেশের সৌন্দর্য বর্ণনা করে একটা গান লেখা হয়েছে- এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী(!) সে জে আমার জন্মভূমি।

আল্লাহ তায়ালা আটটা বেহেস্ত এবং সাতটা দোজখ সৃষ্টি করেছেন বলে হাদিস শরীফ থেকে জানা যায়। কিন্তু দোজখ একটা কেনো কম সৃষ্টি করা হলো? এটা হিসাবে মিলে না। আল্লাহ তায়ালা সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় বা সমান সমান সৃষ্টি করেছেন। যেমন- দুই হাত দুই চোখ দুই পা দুই কান। অতএব দোজখ একটা কম হওয়ার কথা নয়। দুনিয়ার কোথাও না কোথাও দোজখটা আছে। বিজ্ঞানের এই দ্রুত অগ্রযাত্রায় আগামীতে অবশ্যই অষ্টম দোজখ আবিষ্কার হবে বা খুঁজে পাওয়া যাবে। একদা কুমারী শিষ্য তার গুরুকে প্রশ্ন করলো-গুরুদেব, শয়তান কোথায় আছে? গুরুদেব উত্তরে তার কুমারী শিষ্যকে বললো-আমার দুই রানের মধ্যখানে শয়তান বাস করে। এবার কুমারী জানতে চাইলো- দোযখ কোথায় আছে গুরুদেব? গুরুদেব হেসে বললো, তোমার দুই রানের মধ্যখানেই দোযখ রয়েছে। গুরুদেব, তাহলে শয়তানকে দোযখে বন্ধি করে রাখা যায় না? উত্তম প্রস্তাব।

লেখক ঃ কলামিস্ট, আবৃত্তিকার ও নজরুল গবেষক।

harunurrashidarzu@yahoo.com

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.