হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদমজার বিষয়

অবসরে যা করেন এই খ্যাতিমান সফল ব্যক্তিত্বরা

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::: এ পৃথিবীর সফলকামী মানুষরা অন্যদের কাছে অনুকরণীয় এবং অনুস্মরণীয় হয়ে ওঠেন। খাওয়া, ঘুম এবং কাজ ছাড়াও আরো অনেক কিছুই রয়েছে তাদের জীবনে।

আর এগুলোতেই যেন লুকিয়ে রয়েছে তাদের অনেক ক্যারিশমা। কেবল কাজের কল্যাণেই সফল হওয়া যায় না। আরো অনেক মসলার প্রয়োজন হয়। খ্যাতিমান সফল মানুষরা তাই মনে করেন। কাজের ফাঁসে সবারই অবসর থাকে। সেই সময়টাতে তারা এমন কিছু শখের কাজ করেন, যা তাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। এখানে দেখে নিন, আপনার পরিচিত সফল মানুষগুলো অবসর কি করেন তার বয়ান।

১. রিচার্ড ব্রানসন
তার জীবনের রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাই কম-বেশি জানেন। ভার্জিন গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠাতা কাজের মাঝেও অবসর বের করে নেন মানসিক শক্তি অর্জনে। আর তখন সেই শক্তির উৎস হয়ে ওঠে দাবা খেলা। তার দৃষ্টিতে এটাই পৃথিবীর সেরা খেলা। কৌশল, পরিকল্পনা, সাহস এবং ঝুঁকি নেওয়ার মতো বহু গুণের প্রয়োগ দেখাতে হয় এখানে। কাজেই যখন দাবা খেলেন, তখন এসব গুণের চর্চাও ঘটে।

২. জ্যাক ডর্সি
একটা সময় টুইটার এবং স্কোয়ার পুরোদমে দেখতেন এই মানুষটি। ২০১১ সালে টেকোনমি কনফারেন্সে তিনি দর্শক-শ্রোতাদের বলেন, সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিদিনই একটি থিম তৈরি করতে হবে। যেকোনো বিষয় খুব দ্রুত মনে করে ফেলতে হয় এবং সব কাজকে সমান তালে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়। আর এই গুণ তিনি অর্জন করেছেন অবসরে হাইকিং করে। অর্থাৎ, পাহাড়-পর্বত বা রোমাঞ্চকর স্থানের অভিযাত্রী হয়ে ওঠার সুযোগ অবসরে ছাড়েন না তিনি।

৩. মেরিল স্ট্রিপ
পুরষ্কার বিজনীয় এই অভিনেত্রী সেলাই করতে খুব ভালোবাসেন। ‘ডাউট’ মুভিতে যে শাল পরেছিলেন তা নিজেই বুনেছেন। স্ট্রিপ জানান, অবসরের পুরোটাই ব্যয় করে সেলাই ও বুননের কাজে। এই শখ তার থেরাপির মতো কাজ করে। এ কাজের মাধ্যমে তিনি নিজের বিচ্ছিন্ন চিন্তাগুলোকে সাজিয়ে ফেলতে পারেন। জীবনের প্রতিযোগিতাও তার সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৪. কেট ডিমলটন
প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট রংয়ের কারুকাজের বিষয়ে দারুণ আগ্রহী। ডাচেস অব ক্যামব্রিজ মনে করেন, রংয়ের কাজ এক ধরনের মেডিটেশন এবং অর্থপূর্ণ চর্চা। এর মাধ্যমে মানসিক চাপ দূর হয় এবং চিন্তাকে গুছিয়ে আনা সম্ভব।

৫. বিল গেটস
প্রযুক্তি দুনিয়ার এই মহারথীর অবসরের সঙ্গী হয়ে ওঠে ব্রিজ। এই খেলাটা তিনি দারুণ উপভোগ করেন। একজন বিখ্যাত ব্রিজ খেলোয়াড়ও তিনি। পাশাপাশি টেনিস খেলতেও পছন্দ করেন তিনি।

৬. রে দালিও
ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠাতা রি দালিও  সম্পর্কে রিচ ফেলোনি এক প্রতিবেদনে জানান, এই মানুষটি তার জীবনে একজন আদর্শ মানুষ। ১৯৬৯ সালে দালিও যখন কলেজে পড়তেন তখন নিয়মিত ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন চর্চা করতেন। এর মাধ্যমে মানসিক চাপ দূর হয় এবং জীবনে আসে শান্তি। দালিও কেবল নিজেই নয়, তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও একই চর্চা করান।

৭. টম হ্যাঙ্কস
এই বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা পুরনো সময়ের টাইপরাইটার সংগ্রহ করেন। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে এ কাজটি করছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, টাইপরাইটারের শব্দ এবং এতে কাজ করতে দারুণ লাগে তার। এক ভিন্ন আমেজ আসে। প্রতিদিন সুযোগ পেলেই এতে লেখালেখি করেন তিনি। এতে লেখালেখির চর্চা ঘটে এবং সৃষ্টিশীলতা বাড়ে।

৮. সের্গেই ব্রিন
গুগলের এই সহ প্রতিষ্ঠাতা দারুণ সাহসী। তিনি বিমানে চড়ে সেখান থেকে প্যারাশুট পিঠে চাপিয়ে লাফ দেন অনায়াসে। স্কাইডাইভিং ছাড়াও রোলার হকি, আল্টিমেট ফ্রিজবি, জিমন্যাস্টিক্স এবং হাই ফ্লাইং ট্রাপিজি থেকে বিপুল সাহস ও ঝুঁকি নেওয়ার গুণ অর্জন করেছেন।

৯. মারিসা মেয়ার
ইয়াহু এর সিইও এই নারী অবসরে রান্না করেন। সান ফ্রান্সিসকো ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারিসা বলেন, আমিই খুবই বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ করি। রান্নার সেরা পদ্ধতি অবলম্বন করা অভিজ্ঞ রয়ানবিদের কাজ বলেই মনে করি। রান্না নিয়ে খুবই সিরিয়াস এবং গবেষণা চালান রীতিমতো। এতে সময় দিয়ে তিনি যে জ্ঞান লাভ করেন, তা তাকে কর্মক্ষেত্রেও ব্যাপক সহায়তা করে।

১০. ওয়ারেন বাফেট
অবসরটা দারুণ আনন্দময় হয়ে ওঠে যখন একটি অকুলুলু হাতে পান ‘বিনিয়োগ গুরু’। ফোর্বস এক প্রতিবেদনে জানান, বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের সিইও যুগ যুগ ধরে অকুলুলু বাজাতে ভালোবাসেন। সঙ্গীতের প্রতি ধ্যান-জ্ঞান তাকে কাজের প্রতিও আকৃষ্ট করে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.