টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

অবশেষে কক্সবাজার জেলা আ.লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থগিত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ::::: দ্বিতীয় বার ধার্য তারিখেও স্থগিত করা হল কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল। প্রথমে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। এর পর নির্ধারণ করা হয় ৪ অক্টোবর। কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে দ্বিতীয় বার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেও সম্মেলন বাস্তবায়নের মুখ দেখলনা। এ নিয়ে হতাশ দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও কাউন্সিলররা।

সুত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ত্যাগের পর দলীয় নেতাকর্মীরা একটু নড়েচড়ে বসে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে তৃণমূল পথম সভা হয়। এরপর তিন দফায় সভা করে নির্ধারণ করা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর সম্মেলন ও কাউন্সিল। ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সভায়  ঘোষণা দেয়া হয় ৮ উপজেলা, ২ টি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও একটি সাংগঠনিক উপজেলা মিলে ২৯৮ জন জেলা কাউন্সিলর তালিকা। এর পরই শুরু হয়ে যায় ঘোষিত তালিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন। অভিযোগ আনা হয় তালিকায় বিএনপি-জামায়াতের ক্যাড়ারদের অন্তর্ভূক্ত করার। এ নিয়ে বেশ কয়েক দিন কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি চলে।

প্রাপ্ত অভিযোগ মতে, ঘোষিত এ তালিকা থেকে প্রথমে বাদ দেয়া হয় কক্সবাজার সদর-রামু আসনের নবম জাতীয় সংসদ নির্বচনের মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইমুম সরওয়ার কমলকে। এ সংবাদে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। সর্বশেষ বিষয়টি হাই কমান্ড পর্যন্ত গড়ায়। উচ্চমহলের নির্দেশে অবশেষে কাউন্সিলর তালিকাভূক্ত করতে হয়েছে তাকে।

একইভাবে কক্সবাজার পৌর আ.লীগের কাউন্সিলর তালিকা নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ তুলেছেন দলীয় নেতা কর্মীরা। তালিকায় দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী, পরীতি ও দায়িত্বরত সিনিয়র অনেক নেতাদের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ নিয়ে দলের তৃণমূল থেকে সংবাদ মাধ্যমে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান এর নিকট জবাবও চাওয়া হয়।

গঠনতন্ত্রের বিধান মতে, প্রতি ১০ হাজারে ১ জন কাউন্সিলর করার কথা। কিন্তু তা লঙ্ঘন করে কক্সবাজার পৌরসভায় ১ ল ৭০ হাজার জনসংখ্যার অনুপাতে ১৭ জনের স্থলে ২৮ জন অন্তর্র্ভূক্ত করা হয়েছে। তবে এ তালিকায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য নুরুল মাসুদ মানিক, জেলা আওয়ামীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাও: আতিকুর রহমান, এড. ফখরুল ইসলাম গুন্দু, পৌর আওয়ামীগের সিনিয়র নেতা কেরামত আলী, মোজাফফর আহমদ সওদাগর, বাবু রাজ বিহারী দাশ, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, চম্পা উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন কবির, সাইফুদ্দিন খালেদ, শহীদুল্লাহ মেম্বার, জেলা যুবলীগের সভাপতি জনপ্রিয় যুবনেতা খোরশেদ আলম ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী জিন্নাত এর নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া পৌরসভা, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও রামুতে নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত কাউন্সিলর যোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

এরপরও চলতে থাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি এড. এ.কে আহমদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, নজরুল ইসলাম চেীধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে জাফর আলম এমএ, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান ও সোহেল সরওয়ার কাজল মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। এরই মাঝে সম্মেলন ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর পূণঃনির্ধারণ করা হয়। তারপরও কাটেনি শঙ্কা। অবশেষে ২৬ তারিখের চূড়ান্ত বৈঠক থেকে স্থগিত ঘোষণা করা হয় কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সাথে কক্সবাজার জেলার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বৈঠক নির্ধারিত হওয়ায় ৪ অক্টোবরের সম্মেলন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সর্বশেষ জেলা আ,লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্মেলনের ঘোষিত সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন হল না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT