হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপরিবেশপ্রচ্ছদ

অপরিকল্পিত নগরায়নের থাবা ফসলি জমির ওপর

এমএস রানা, উখিয়া = উখিয়া টেকনাফে অপরিকল্পিতভাবে ও অ্ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠা বহুতল ভবন নগরায়নের কালো থাবায় পড়ে তছনছ হয়ে পড়েছে ফসলি জমির উপর ফলে আশংকাজনক হারে এ অঞ্চলে কমে যাচ্ছে আবাদি বা ফসলি জমি। গত বারো বছরে উখিয়া টেকনাফে আবাদি জমি কমে গেছে হাজার হাজার হেক্টর। এ পরিমাণ জমি থেকে উৎপাদন কমেছে লাখ টনেরও বেশি। কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হওয়ার পাশা-পাশি পর্যটক নগরী হওয়ার সুবাদে এঅঞ্চলে দেশি বিদেশী পর্যটকের আনাগোনা, বিভিন্ন এনজিও সংস্থার বিচরন, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্টান অধিকতর হওয়া সহ ব্যবসা বানিজ্য বৃদ্বি পাওয়ায় আবাসিক অনাবাসিক বাসা বাড়ি বানিজ্যালয়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়াতে অধিকাংশ জমির মালিক তাদের জমি ভরাট করে গড়ে তুলছে বহুতল ভবন। যার কারনে এলাকার জমির দাম দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। দেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে জন সংখ্যার হার, বাড়ছেনা জমি। বাড়ছে আবাসভূমি কমছে ফসলি জমি। দলে দলে আসছে মানুষ গড়ছে স্থায়ী বসস্থান। অনেক এনজিও সহ বেসরকারি প্রতিষ্টান এলাকায় এসে প্রথমে তারা ভাড়া বাড়িতে থাকলেও সুযোগ মতে ধানি জমি ক্রয় করে নিজস্ব ভবন নির্মান করে থাকে।
এ ছাড়াও এখানে ডেভেলপারের সংখ্যা বেড়ে গেছে, তারা জনবহুল ষ্টেশনের আশেপাশের ধানি জমি সহ বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লায় জমি কিনে বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করছেন। ডেভেলপাররা যাদের জায়গা কিনে ফ্ল্যাট বানাচ্ছেন তাদের সঙ্গে চুক্তি থাকে যে বহুতল ভবনের কয়েকটি ফ্লাট ভূমির মালিকের জন্য বরাদ্দ করা হয়। তা ছাড়াও কালের পরিক্রমায় সমাজের যৌথ পরিবার গুলো ভেঙ্গে খন্ডিত হওয়ায় অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বেড়ে যাওয়ায় অধিক মানুষের বাসস্থান গড়তে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমি। এ ছাড়াও উখিয়া টেকনাফে বানের পানির ন্যায় মায়ানমারের রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রবেশ করে বাংলাদেশী নাগরিক বনে গিয়ে বিয়ে শাদি, ব্যবসা বানিজ্য করে স্থানীয় ভাবে গড়ে তুলেছে আবাস স্থল। দেশের বাড়তে থাকা জনসংখ্যা পাশাপাশি অবৈধ রোহিঙ্গাদের নিয়ে জন সংখ্যার ভারে নুয়ে পড়া দুই উপজেলার মাটি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। বসবাসের জায়গা খুঁজতে তারা বেছে নিচ্ছে ধানি ও বিভিন্ন ফসলি জমি। উখিয়া টেকনাফ এলাকা পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার কারনে বনজ সম্পদে ভরপুর ছিল হাট বাজার গুলো। স্থানীয় জনগন ছাড়াও অবৈধ রোহিঙ্গারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাহাড় ও বনজ সম্পদ উজাড় করে দেয়ায় কারনে বনজ সম্পদ আজ দেশে শুন্যের কোটায় এসে পৌছে গেছে। দেশে খাদ্য সামগ্রীর ঘাটতি পুরন করতে বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে। ফসলি জমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মান বন্ধের জন্য সরকার আইন প্রনয়ন করলেও বন্ধ হচ্ছেনা ফসলি জমি ভরাটের মহাযজ্ঞ। অভিজ্ঞ মহল মতে দেশের প্রচলিত আইনের যথাযত প্রয়োগ না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।
উখিয়া টেকনাফের পাশ্ববর্তি উপজেলাগুলোতে একই ভাবে আবাদি জমিতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা গড়ে উঠেছে আশংকাজনক ভাবে, যার ফলে উপজেলায় এ প্রবণতা বেশি।
হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম এমএ বলেন উখিয়া টেকনাফ এলাকা দিন দিন উন্নতমানের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। জেলা শহর কক্সবাজারের সাথে পাল্লাদিয়ে এখানে গড়ে উঠছে শপিংমল, কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বহুতল শপিং কমপ্লেক্স, বড় কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টার, অত্যাধুনিক মার্কেট, ফোরস্টার মর্যাদার হোটেলসহ উন্নত অবকাঠামো। কক্সবাজার দেশের পর্যটক নগরী হওয়ায় বেশিরভাগ উন্নত স্থাপনা গড়ে উঠছে আবাদি জমির ওপর, যে কারণে আবাদি জমি বিক্রির হারও বেড়ে গেছে। সেই সাথে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে খাদ্য দ্রব্যের মুল্য। সচেতন মহলের অভিমত এভাবে দিন দিন আবাদি জমি কমতে থাকলে মারাত্মক খাদ্য ঘাটতি সহ সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার অধিকার হারাতে পারে আগামী প্রজন্ম ।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.