টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

অপরাধীদের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ দক্ষিণখান অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ২৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

নব্য জেএমবির অন্যতম নেতা মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা আস্তানা গড়ে তুলেছিল রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায়। গ্রাম্য আবহের এই এলাকাকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে বেছে নিয়েছিল সে এবং তার সংগঠনের লোকজন। সেখানে অবস্থান করে নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছিল জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। শুধু নব্য জেএমবিই নয়, দক্ষিণখানের এলাকায় খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরাও নির্বিঘ্নে থাকছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে অপরাধপ্রবণ এই এলাকায়। সম্প্রতি আলোচিত সেই সিরিয়াল কিলারকে আজও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া প্রায়ই ছিনতাই-চুরির ঘটনা ঘটছে। মাদক ব্যবসা ঢুকে পড়েছে অলিগলিতে। অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশের সোর্স মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক। সরেজমিন অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, অপরাধীরা রাজধানী ঢাকার সীমান্ত এলাকাকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ মনে করে। এ কারণে অনেক অপরাধী সেসব এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী পরিচয়ে পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গি মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা। সে ওই বাসায় জঙ্গি আস্তানা গড়ে তুলেছিল। গত ২৩ ডিসেম্বর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ওই আস্তানার সন্ধান পায়। পরদিন অভিযান চালানো হয় সেখানে। এ ছাড়া খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে এই এলাকায়। গত
বছর এক যুবক বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ঘরে ঢুকে চার গৃহকর্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। তাদের দু’জন নিহত ও দু’জন গুরুতর আহত হন।
দক্ষিণখানের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দক্ষিণখানে এখনও গ্রামীণ আবহ রয়েছে। বসবাসকারীদের অধিকাংশই স্বল্প আয়ের মানুষ। অন্য অপরাধের পাশাপাশি এই এলাকার মানুষের কাছে বড় সমস্যা মাদকদ্রব্য। একাধিক স্পটে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হচ্ছে ইয়াবা। হাত বাড়ালেই ইয়াবা পাওয়ায় সেদিকে ঝুঁকে পড়ছে উঠতি বয়সের ছেলেরা। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে ছিনতাই-চুরিতেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোর মধ্যে জামতলায় ইয়াবা সরবরাহ করে সহিদুল ও আলামিন, মোল্লারটেকে গিটার মামুন ও মনির, আশকোনার শুভ হোটেলের গলির মথায় ইদ্রিস, কলেজ রোডের বাম পাশে মিনা বেগম, আশকোনায় হারুন মোল্লা, ওসমান, আজমপুরে রহিম ও শাকিল ইয়াবার অন্যতম ডিলার। কোর্টবাড়ি এলাকায় গাঁজা ব্যবসায়ী রাশিদা ও মাসুদ এবং বাংলা মদ ব্যবসা করে গনি। এ ছাড়া আক্তার নামে এক মাদক ব্যবসায়ী দক্ষিণখানের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে।
তবে স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, দক্ষিণখানে অপরাধের সংখ্যা খুবই কম। অপরাধ বলতে মাদক ব্যবসা আছে টুকটাক। এর বাইরে অন্য কোনো অপরাধ তেমন সংঘটিত হয় না। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
অভিযোগ আছে, পুলিশের সোর্স মিজান মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা উঠিয়ে থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। কেউ চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মিজান তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। মিজান দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় কাটান থানায় ও এক কর্মকর্তার সঙ্গে। আসামি আটক-ছাড়ার মধ্যস্থতাও করেন তিনি।

সোর্স মিজান পুলিশকে তথ্য দেয় এ কথা স্বীকার করে দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, মিজান শুধু থানা পুলিশের সোর্স নয়, সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থাকে তথ্য দেয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় মিজান থানায় কীভাবে থাকে জানতে চাইলে ওসি বলেন, সে কেন থানায় থাকবে? সোর্স তো থানায় থাকার কথা নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মিজানের টাকা তোলার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই জানিয়ে ওসি বলেন, নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে মিজান অভিযোগ অস্বীকার করে সমকালকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেউ টাকা নেওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারবে না। ওসি সাহেব আমাকে বলেছেন, দক্ষিণখানে কোনো মাদক থাকবে না। আমার তথ্যে অনেক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণখান এলাকায় অন্তত পাঁচশ’ অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নামধারী এক নেতা ও এক মহিলা লীগ নেত্রীর লোকজন চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজির শিকার কয়েকজন অটোরিকশা চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা নিয়মিত চাঁদা দিয়ে এলাকা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। টাকা না দিলেই পুলিশ দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়।
পুলিশের দক্ষিণখান জোনের সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। –

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT