টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

অনুসন্ধানি প্রতিবেদন: আবেগ ও ষড়যন্ত্রে ধরাশায়ী শওকত!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৩
  • ১১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইমাম খাইর,কক্সবাজার ### sawkat.অনিয়ন্ত্রিত আবেগ ও ষড়যন্ত্রে ধরাশায়ী হলো কক্সবাজারের মেধাবী ছাত্র শওকত আবছার। জন্মের মাত্র চার বছরে মা’কে হারালেও শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বৃত্তি পাওয়া এ শিক্ষার্থী মিশর দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগে ২১ আগষ্ট রাজধানীর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়। বিশ্বব্যাপী তৈরী করে পিলে চমকানো ঘটনা। একমাত্র শওকতের কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার হেড় লাইন হলো কক্সবাজারের অজপাড়া গাঁ পালাকাটা।

তার আটকের খবর দেশ ছাড়াও বিশ্ব মিড়িয়ায় স্থান পায়। তাকে নিয়ে মানুষের মাঝে কৌতুহলের কোন অন্ত নেই। এরই মধ্যে অনেক মিডিয়ায় তাকে জোর করে শিবির কর্মী বলে প্রচার করাসহ উপস্থাপিত হতে থাকে নানা বিকৃত তথ্য। অথচ তার পরিবার ও এলাকাবাসি বলেছে শওকত কোন রাজনীতি করেনা। আবার ছাত্রশিবির বিবৃতি দিয়ে শওকত তাদের দলের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে বিষয়টি আরো খোলাসা করেছে।

এসব বিবেচনায় শুক্রবার তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার জালালাবাদের পালাকাটা নামক এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে যাওয়া হয়। এ সময় এলাকাবাসির মুখে ওঠে আসে নানা তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শওকত একটু দূরন্তপনা স্বভাবের। প্রাইমারি লেভেলে মা’কে হারিয়ে তার মনোবল ভেঙে যায়। এরপর মাধ্যমিক বয়সে এসে একমাত্র সম্বল বাবকে হারিয়ে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে শওকত। ছোটকাল থেকে সে ধর্মীয় অনুভূতি লালন করতো এবং লেখালেখির কাজে জড়িত ছিল। তবে ছেলেটি বেশি আবেগপ্রবণ ছিল। হাবভাবও ছিল আলাদা। মানসিকভাবে তার সাথে কারো না মেললে একলা চলো নীতিতেই বিশ্বাসী ছিল; অনেকটা মুক্তমনা ছিল সে। মাঝে মধ্যে তাবলীগ জামায়াতের চিল্লায় যেতো। শহরের গোলদীঘির পাড়স্থ মারগাজে থাকতো অধিকাংশ সময়।

এলাকার কেউ কেউ বলেছেন, মিশর দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার হুমকি সম্বলিত চিঠি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার পুঞ্জিভূত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তবে এসময় সে মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় ওই চিঠিতে তার ব্যবহারের মোবাইল নাম্বারটিও উল্লেখ করতে ভুল করেনি।

অনেকে বলছেন, মাত্র দু’দিন আগে ঢাকা গিয়ে সে এমনটি করার সাহস পাওয়ার কথা না। আবার কিছু লোক বলছেন শওকত এ কাজকে এত মামুলি মনে করেছে যে, নিজ হাতের লেখা চিঠি দিতে শঙ্কা ও দ্বিধাবোধ করেনি। অবশ্যই অনেকে এটিও বলেছেন যে, সে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়।  তার বিরুদ্ধে এটি নিছক একটি বিরাট ষড়যন্ত্র। নেপথ্যে থাকা লোকজনকে তদন্তপূর্বক বের করা দরকার।

এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসাইন জানান, ‘শওকত একজন ন¤্র ও ভদ্র ছেলে। সে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বরং আওয়ামী পরিবারে তার জন্ম। অভিযোগে আটক শওকত ঢাকার কোন অলিগলি কিংবা পথ ঘাটও ভাল করে চেনার কথা না। কারণ, দু’দিন আগে সে ঢাকায় গেছে।’

মো. ইকবাল হোসাইন নামে শওকতের সিনিয়র এক বন্ধু জানান, ‘ছোট বয়সে পিতা মাতা হারানোর কারণে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়। চলাফেরা করতো নিজের মতো। কারো কথায় সে পাত্তা দিতো না। মেধাবী ছাত্র হওয়ায় তথ্য-প্রযুক্তির প্রতি তার একটা আলাদা ঝুঁক ছিল। ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করতো দেশ বিদেশের খবরাখবর। হয়তোবা মিশরের চলমান ঘটনা তাকে প্রভাবিত করেছে।’

ওয়ার্ডের মেম্বার বদিউল আলম জানান, ‘শওকতের মতো মেধাবী ছেলে পাওয়া দুষ্কর। এ বয়সে তার দ্বারা এরকম দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটানো আদৌ সম্ভব বলে মনে হয়না। এতে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।’

তার মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম আলমগীর জানিয়েছেন, শওকত কাসের প্রথম সারির ছাত্র ছিল। অবসর পেলে সময় নষ্ট না করে সে আউট বই পড়তো। প্রতি কাসে তার ফলাফল ছিল দৃষ্টান্তমূলক। ছাত্র থাকাকালে কুড়িয়ে নেয় শিক্ষাবৃত্তি ও নানা পুরস্কার।

তার গ্রামের বাসিন্দা মাষ্টার আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, ‘ছোট কাল থেকে শওকত ধর্মপরায়ন ছিল। আমার জানামতে সে কক্সবাজার থাকাকালে তাবলীগের মেসে থাকত এবং তাবলীগের দাওয়াতি কাজে সময় দিত। এত অল্প বয়সে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে তার জড়িত থাকার কথা না।’

ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ‘পরিবারের সর্ব কনিষ্ট ছেলে শওকত মাঝে মধ্যে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে আবুল তাবুল আচরণ করতো। সাধারণ লোকজন থেকে আলাদা হয়ে যেত সে।’ তবে শওকত ছোট বয়সে মা বাবা দু’জনকে হারানোর ব্যাথায় ব্যাথিত ছিল বলেও মনে করছেন এ সমাজ সেবক।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সেলিম মোর্শেদ ফরাজি জানান, ‘সে খুব ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র। কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল বলে আমার মনে হয়না। এটা বিশ্বাস করাও দায়।’

শওকতের সেজ ভাই মোহাম্মদ নাসির মিয়া জানান, তারা ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকরী করে পরিবার চালান। তাদের পরিবার জামাত-শিবির তো দূরের কথা কোন রাজনৈতিকদলের সাথে জড়িত নয়। তবে আত্মীয় স্বজন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যায় ভর্তি কোচিং করতে ঢাকা যাওয়ার দু’দিনের মাথায় মিশর দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আটকের ঘটনা টেলিভিশনে দেখার পর তার পরিবার রীতিমত হতভাগ হয়ে যান। সে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার দাবী করেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসি।

অভিযোগে আটক শওকত কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলমের ভাগিনা, জালালাবাদের (পালাকাটা) ৮নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি মোকতার আহমদ ভাই ও সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ তার ফুফা হন।

শওকত আবছার ২০১১ সালে ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন থেকে এসএসসি (বিজ্ঞান)-তে জিপিএ-৫ পাওয়ার কথা থাকলেও দূর্ভাগ্যজনকভাবে জিপিএ-৪.২৫ এবং ২০১৩ সালে কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে একই বিষয়ে ৩.৩০সহ এইচএসসি পাশ করেছে। সে সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকার সাবেক মেম্বার মরহুম সোলতান অহমদর ও মা’ মরহুমা হাজেরা বেগমের পুত্র। আট ভাই দুই বোনের মধ্যে শওকত সর্ব কনিষ্ট।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT