টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

অনিয়ম ও অব্যবস্থানায় বেসামাল জেলার পশুহাট ক্রেতা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

 

 

কাফি আনোয়ার;;;; কাছ থেকে অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগ, মহাসকে যানজট ও যাত্রীদূের্ভাগ ত্যাগ ও উৎসর্গের উৎসব ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা জেলার বিভিন্ন  পশুহাটে চলছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা । ইজারাদারদের দৌরাত্মে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতা । ক্রেতার কাছ থেকে নিয়মবর্হিভুত  ইজারা টোল (হাসিল) আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সরেজমিনে  জেলার বৃহত্তম  ঈদগাঁও পশুহাট  ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়কে গড়ে  ওঠা ওই হাটে হাজার হাজার গরু-মহিষের পাশাপাশি ল ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড়। ঈদ গাঁও বাসস্টেশন থেকে মেহেরঘোনা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২ কিমি জুড়ে বিস্তৃত হাটে অসহনীয় যানজট ও মানবজটে চরম দূর্ভোগে পড়েছে যাত্রীসাধারণ ও পরিবহনব্যবস্থা। দুপুর থেকে গভীর রাত অবদি পশু কেনাবেচা চললেও সঙ্গিন  নিরাপত্তা  ও আলোকব্যবস্থার কারণে শংকিত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা আগেভাগেই হাট ত্যাগ করতে দেখা যায়। খুটাখালী থেকে আসা গরুবিক্রেতা আবদুল আলীম(৪০) জানান,  গরুর ভাল দাম পাওয়ার আশায় এত দুর থেকে এসেছেন । অনেকে দরাদরি করলেও শেষপর্যন্ত বিক্রি হয়নি। আশানুরুপ দাম না উঠায় বিক্রি না করে চলে যাচ্ছেন। বাইশারী থেকে আসা গরুব্যবসায়ী মোতাহের (৩৬) বিগত পাচঁ বছর ধরে এ হাটে ব্যবসা করছেন । তবে এবার তিনি হতাশ। দালালচক্রের অপতৎপরতা  ও ক্রেতার কাছ থেকে টোল আদায়সহ নানাবিধ কারণে  ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশী। ইসলামপুর থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী নুরুল আলম জানান, গরু কিনে পড়েছে চরম বিপাকে ইজারাদারদের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার অবস্থা । গরু কিনে ৩০০ টাকা টোল (আক্কেল সেলামী) দিয়েও  বারবার একাধিক  হাসিল উশুলকারীর নিকট নাজেহাল হতে হয়েছে । একজনের  দেয়া হাসিল রশিদ অন্যজনে বিশ্বাস করে না । একই অভিযোগ ঢাকা থেকে গ্রামে ঈদ করতে আসা চৌফলদন্ডীর কামাল উদ্দীনের। জানা গেছে , কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে  ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ঈদগাঁও বাজার ইজারা দেয়। ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী হাটবাজারে টোল আদায়ের মূল্যতালিকা দৃশ্যমান  ও জনসঙ্গম স্থলে টাঙ্গানোর কথা থাকলেও কার্যেেত্র কোথাও কোন মূল্যতালিকার হদিস পাওয়া যায়নি। কোরবানীর পশুহাটে ক্রেতার নিকট থেকে টোল আদায় করা শুধু নিয়ম বর্হিভুতই নয় , বরং ইতোপূর্বে দেশের কোন পশুহাট হয়েছে বলেও শোনা যায়নি। ঈদগাঁও ও খরুলিয়া পশুহাটে গরু-মহিষের টোল  বিক্রেতা কাছ থেকে ৭০০ টাকা , ক্রেতার কাছ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পশুহাট ব্যবস্থাপনায় সার্বনিক নিরাপত্তা , স্বেচ্ছাসেবক , পানি ও আলোকব্যবস্থা ,পশুবর্জ্য অপসারনসহ  প্রতিপালনীয় নিয়মের কোনটাই মানা হচ্ছে না। সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জিম্মি করে  আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টোল ( হাসিল ) । একই চিত্র জেলার অন্যতম বৃহৎ পশুহাট খরুলিয়া , চকরিয়াসহ  অন্যান্য স্থানেও। অভিযোগ সম্পর্কে  ঈদগাঁও বাজারের ইজারাদার রাশেল এর সাথে কথা হলে কে জানান , ক্রেতার কাছে থেকে গত পাঁচবছর ধরে টোল আদায় করা হচ্ছে। তিনি ইজারা নিয়েছেন চলতি বছর । তিনি আরো জানান ,ইতোপূর্বে যারা বাজার ইজারা নিয়েছে তারাই এটা চালু করেছে। ক্রেতার নিকট থেকে টোল আদায় করা  নিয়মবর্হিভুত বলে স্বীকার করে বলেন ,বিক্রেতাদের টোল আদায়ে গড়িমসি , জোচ্চোরি  ও ধাপ্পাবাজির কারণে টোল আদায়ের হার হতাশাব্যঞ্জক  । ইজারা মুল্যপরিশোধ ও লোকসান  কমাতে ক্রেতাদের উপর ওই   নিয়মবর্হিভুত  টোলের বোঝা চাপানো হয়েছে। টোল আদায়ের মূল্যতালিকা টাঙ্গানো ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। ক্রেতার কাছ থেকে অবৈধ টোল আদায়ের  ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আবদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান , ক্রেতার কাছ থেকে টোল আদায়ের ব্যাপারে ইজারা নীতিমালার কোথাও পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। তবে ইজারাদাররা টোল সমন্নয়ের অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং ইজারাদারদের সাথে কথা বলে বিহিত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্থ করেন । সরকার ফিবছর হাটবাজার গুলি থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও হাটবাজার উন্নয়নে কানাকড়িও ব্যয় করছে না । এছাড়া স্থায়ী পশুহাটের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও নেই।যেকারনে মহাসড়কই পশুহাট আবার পশুহাটই মহাসড়ক এবং অনিয়ম , অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের এ দৃশ্য যেনো  নৈমিত্তিক ফ্রেমে বাঁধা।

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT