টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

অগ্নিদগ্ধ দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনকালে-প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১২
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবদুর রহিম সেলিম…স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ২০০১ সালে নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে যারা হিন্দু ও বড়–য়া সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে হামলা ও লুটপাট চালায়, মানুষ হত্যা করেছিল এবং মহিলার ইজ্জত লুন্টন করেছিল তারাই রামু ও উখিয়াতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বর্বর ঘটনার সাথে কারা জড়িত, কোথায় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কিভাবে ঘটনার পরিকল্পনা করা হয় তার সব তথ্য সরকারের কাছে পৌছেঁছে এবং মানুষ ভাড়া করার ট্রাক জব্দ ও ড্রাইভার আটক হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত একটি কনক্রিট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছেঁ। তিনি আরও বলেন, এ আঘাত গণতন্ত্র, দেশ ও বাঙ্গালির সংস্কৃতির উপর, যা সইবার মত নয়। বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরের জনসভায় যে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়, তখনি বুঝতে পারি এটা অসনি সংকেত। বেগম জিয়া হবিগঞ্জের জনসভায় পাগলের প্রলাব করে এ ঘটনা সরকারী দলের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে বলে উল্লেখ করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি গতকাল রোববার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের অগ্নিদগ্ধ পশ্চিম মরিচ্যা দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনকালে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, এলাকাবাসী ও ভিক্ষুর সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি এ দেশকে যারা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং রামুর গহীণ অরণ্যে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। রামুর ঘটনার সময় প্রশাসনের শৈথিল্যতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত তারা যে দলেরই হোক না কেন এবং যত বড়ই শক্তিশালী ব্যক্তি হোক না কেন কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি সকল ভয়ভীতি আশংকা দূর করে আগামী প্রবরণা অনুষ্ঠান নির্ভিঘেœ পালনের জন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান। এ সময় পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক উচৈসিং বীর বাহাদুর এমপি বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর এ আঘাত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর নয় শেখ হাসিনার উপরই করা হয়েছে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ভাঙ্গলে গড়া যায়, কিন্তু মানুষের মন ভাঙ্গলে তা গড়া যায় না। বৌদ্ধদেব আমাদের ধৈর্য্য ধারনের জন্য বলেছেন। তাই বৌদ্ধের বাণী থেকে একটুও সরে যায়নি। উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ আবদুর রহমান বদি বলেছেন, বিএনপি দলীয় সাংসদ শাহ জাহান চৌধুরী ও জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহ জালাল চৌধুরীর বাড়ীর নিকটবর্তী আধা কিলোমিটারের মধ্যে ১টি মন্দির পোড়ানো ও ২টি ভাংচুর করা হয়। এর পর থেকে উপজেলার অন্যান্য স্থানে ধ্বংস জজ্ঞ শুরু হয়। জেলা প্রশাসনকে পর্যাপ্ত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের জন্য বলা হলেও তা হয়নি। ঘটনার পরদিন পুলিশ সুপার অন্যত্র চলে যায়। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন বলেছেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর রাজ্যের মুর্তির নাক ভাঙ্গার দূস্কৃতিকারীদের নির্দিষ্ট সময়ে ধরে শাস্তি দিতে না পেরে নিজের নাক কাটার প্রস্তুতি নেন। এরই নাম ইসলাম ধর্ম। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীম, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শেখর তাঁর বক্তব্যে বলেন, ওরা এ ঘটনা করে ধর্মীয় উদ্মাদনাকে ব্যবহার করে বাঙ্গালির সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেছে। ঘটনার খবর শুনার পর থেকে প্রধান মন্ত্রী উদ্বেলিত। তিনি আপনাদের পাশে আছেন। তাই আজ আপনাদের দেখার জন্য ছুটে আসছেন। আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা রাহুল বড়–য়া, শহিদুল হক রাসেল, স্বেচ্ছসেবক লীগের সভাপতি আবু কাউসার মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটন, সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিষ্টার প্রশান্ত ভূষন বড়–য়া ও ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়–য়া, । এ সময় কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সমিতি (যুব) সভাপতি রবীন্দ্র বিজয় বড়–য়া তাঁর বক্তব্যে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ওই দিন কি কোন প্রশাসন ছিল না ? ঘটনার সময় প্রশাসনকে অবহিত করেও কোন সহযোগীতা পায়নি। ঘটনার পরবর্তী এখনো অনেকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমরা নিরাপদে শান্তিতে ঘুমাতে চায়। এ সময় সেদিনের উখিয়ার ঘটনা সম্পর্কে তুলে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক শাহ আলম চৌধুরী প্রকাশ রাজা শাহ আলম ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে মদুসূধন বড়–য়া, এডভোকেট অনিল বড়–য়া, শিক্ষক মেধু কুমার বড়–য়া। এ সময় প্রতিমন্ত্রী দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু বিমল জ্যোতি মহাথের এর সাথে ঘটনার সম্পর্কে জানতে চায়। পরে বেলা আড়াইটায় রতœাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রতœা সুদর্শন বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন এবং সেখানেও মতবিনিময় সভা করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT