টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

অকালে ঝরে পড়লো একটি ফুটন্ত গোলাপ সুখিয়া আক্তার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩
  • ২৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

skiaaktar

-মোঃ মাহবুবুর রহমান মানুষ মাত্রই মরণশীল। জন্মগ্রহনকারী প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু হবে প্রাকৃতিক নিয়মে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুনিয়ার মায়াবী জাল ছিন্ন করতে হবে সকলকে। ওপারে পাড়ি জমাতে হবে সকল জীবাত্মাকে। এটিই সাভাবিক। কারন, যিনি মানব সৃষ্টি করেছেন তিনিই বলে দিয়েছেন ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর শরাব পান করতে হবে।’ তাই ণস্থায়ী পৃথিবীতে স্থায়ী বলতে কিছুই নেই।

প্রকৃতির চিরাচরিত সেই নিয়মের সাথে আলিঙ্গন করে আমাদের সকলের প্রিয় মেধাবী ছাত্রী সুখিয়া আক্তার অকালে চলে গেলো না ফেরার দেশে। সামান্য রোগের সাথে দীর্ঘ দিন লড়াই করে অবশেষে পরাজিত হলো প্রকৃতির সেই শ্বাশত নিয়মের কাছে অশ্র“ ্রজলে ভাসালো তার অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে। ঝরে গেল আমাদের বাগানের একটি ফুটন্ত গোলাপ। যে গোলাপটি চির দিনের জন্য তার শুভাষ ছড়ানোর মতা হারিয়ে ফেললো। সে আর ফিরে আসবেনা আমাদের মাঝে। নাম সুখিয়া হলেও সবাইকে দু:খিয়া বানিয়ে বিছানাহীন অন্ধকার কবরে শুয়ে রইলো সে একাই। মনে হয় সুখিয়া সুখে থাকবে কবরে। তবে তার পথ চলার অসংখ্য স্মৃতি আমাদের তাড়িত করে বেড়াবে নিশ্চয়। স্মরণ করিয়ে দেবে মৃত্যর সেই নিষ্টুরতম আচরণকে।

মানুষের জন্মের ধারাবাহিকতা আছে কিন্তু মৃত্যুর কোন ধারাবাহিকতা নেই। অকালে ঝরে পড়া সুখিয়া আমাদের সেটিই আরেকবার প্রমান করে দিল। উপজেলার হোয়ানকের পুইঁছড়া টাইম বাজার এলাকায় সুখিয়ার গ্রামের বাড়ি। তার পিতা-মোহাম্মদ চৌধুরী মিয়া, মাতা-ছলিমা খাতুন। ৫ ভাই ৬ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। মা’বাবা-ভাই-বোন ও পাড়া পড়শি  সবার আদরের সুখিয়া আক্তার।

ওপারের যাত্রি সুখিয়া বেঁচে থাকলে হয়তোবা তার জ্ঞানের আলো দিয়ে এক দিন আলোকিত করতো দেশকে। পাপ পঙ্খিলতায় ঝাঝরা হয়ে যাওয়া সমাজকে বদলে দিতো ইসলামের আদর্শ দিয়ে। কিন্তু না সে পেরে উঠলো না। নিমিসে সব স্বপ্ন শেষ। মহান শ্রষ্টার এক হুকুমের নিকট পৃথিবীর সব স্বপ্ন-স্বাদ পরাভুত। মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বেলতাগির মেয়ে হাফেজা আসমা বিন বেলতাগি ইসলামী আদর্শ বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিল। এ জন্য স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে সে। বাবার আদর্শকে ধারন করে সেনাবিরুধী আগ্রাসনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত ১৪ আগষ্ট মিশরের সেনাবাহীনির বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় আসমার বুক। শহীদি মৃত্যু তাকে আলিঙ্গন করেছে। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে চেয়েছিল। মৃত্যু তা হতে দেয়নি।

ঠিক একইভাবে আমাদের প্রিয় ছাত্রী সুখিয়া অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছিল। লেখাপড়া করে উচ্চশিায় শিতি হয়ে সমাজে প্রতিষ্টিত হবে। মা’বাবার স্বপ্ন পুরন করে তাদের মুখ উজ্জল করবে। সেই স্বপ্নে তাড়িত হয়ে সে ২০১১ সালে হোয়ানক বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। ভর্তি হয় উচ্চশিা অর্জনের লে মহেশখালী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে। সুখিয়া অত্যান্ত নম্র,ভদ্র ও মেধাবী ছিল। অল্প কয়েক মাসের মধ্যে তার সহপাটি ও শিকদের আস্তা অর্জন করতে সম হয়েছিল। তাইতো তার মৃত্যুর সংবাদ কলেজের শিক, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সহপাঠিদের গভীর ভাবে নাড়া দেয়। শোকের সাগরে ভাসিয়ে তুল্ল সকলকে।

সুখিয়া আক্তার মরন ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো।  চিকিৎসা করতে গিয়ে সুখিয়ার বাবা বাড়ী-ভিটে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এরপর তার মামা এনজিও কর্মকর্তা জাফর আলম চিকিৎসার জন্য অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য চেয়ে ধরনা দেয় অনেক দরবারে। সাহায্যও করেছে যে যার সাধ্য মতো। এরপরও মৃত্যু তাকে ছাড় দেয়নি। অবশেষে গত ২৬ আগষ্ট  মৃত্যু তার সঙ্গি হয়ে গেলো। আলিঙ্গন করেছেন সুখিয়ার সাথে। এ সুন্দর পৃথিবীর মায়া মমতা ছেড়ে চলে গেলো না ফেরার দেশে।

আদরের সর্বকনিষ্ট মেয়েকে হারিয়ে রীতিমতোই জ্ঞান হারাচ্ছেন তার মা’বাবা ও বড় ভাই বোনেরা। চলছে তার সহপাঠীদের মাঝে শোকের মাতম। পরিশেষে আমরা তার জন্য দোয়া করি যেন, আল্লাহ-তায়ালা তার সমস্ত ভাল কাজগুলো কবুল করেন। জীবন চলায় স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়া অপরাধসমূহ মাফ করেন। ভাল কাজের বিনিময়ে জান্নাত দানকরেন। আমিন। সুম্মা আমিন।

লেখক: প্রভাষক- ব্যবস্থাপনা , বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ,  মহেশখালী, কক্সবাজার।।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT